বিয়ে করলেই বাড়ি, ভাতা ও নগদ অর্থ; জন্মহার বাড়াতে কোরিয়ার উদ্যোগ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২৬
বিশ্বের সবচেয়ে কম জন্মহারের দেশগুলোর একটি দক্ষিণ কোরিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চলা জনসংখ্যা সংকট মোকাবিলায় দেশটির সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো নানা ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে। কোথাও নবদম্পতিদের জন্য স্বল্প খরচে বাসস্থান, কোথাও নগদ অর্থ, আবার সন্তান জন্ম নিলে মিলছে বাড়তি আর্থিক সহায়তা।
জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৭০-এর দশকে দক্ষিণ কোরিয়ার জনসংখ্যা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়বে এবং কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে।
এই সংকট মোকাবিলায় গত দুই দশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে দেশটির সরকার। তবুও জন্মহার দীর্ঘ সময় ধরে নিম্নমুখী ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সালে প্রতি নারীর গড় সন্তান জন্মদানের হার ছিল ০.৭২, যা ২০২৬ সালের শুরুতে বেড়ে ০.৯৯-এ পৌঁছেছে।
তরুণদের বিয়েতে উৎসাহ দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ম্যাচমেকিং বা পরিচয়মূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে অনেক তরুণ-তরুণী পরিচিত হয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন এবং পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
দেশটির ইনচন শহরে নবদম্পতি ও নতুন অভিভাবকদের জন্য স্বল্প খরচে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে প্রথম সন্তান জন্মের পর পরিবারগুলো নগদ সহায়তা পাচ্ছে। দ্বিতীয় সন্তান থেকে সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ছে। পাশাপাশি শিশু লালন-পালনে মাসিক ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
সিউলে সন্তান নিতে ইচ্ছুক নারীদের জন্য ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) চিকিৎসার বড় অংশের খরচ সরকার বহন করছে। ফলে বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যায় ভোগা অনেক দম্পতি চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।
শুধু সরকার নয়, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও জন্মহার বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা, ডে-কেয়ার সুবিধা এবং দীর্ঘ মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটি দিচ্ছে।
তবে গবেষকদের মতে, আর্থিক প্রণোদনা একাই জন্মহার বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেয় না। জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মজীবনের চাপ, বাসস্থান সংকট এবং পরিবার সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, দক্ষিণ কোরিয়ায় জন্মহারের সাম্প্রতিক উন্নতি সরকারি নীতির পাশাপাশি তরুণদের বিবাহ ও পরিবার গঠনের বিষয়ে পরিবর্তিত মনোভাবের ফলও হতে পারে।



