সাগরে আছড়ে পড়ল ৪০ তলা ভবনের সমান স্টারশিপ রকেট
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
স্পেসএক্সের ‘স্টারশিপ’ রকেট সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) উৎক্ষেপণের সময় একটি ইঞ্জিন অপ্রত্যাশিতভাবে বন্ধ হয়ে গেলেও রকেটটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রথম ব্যাচের নতুন স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপার হেভি বুস্টার ও ওপরের মূল স্টারশিপ মহাকাশযানের সমন্বয়ে তৈরি ৪০ তলা ভবনের সমান মনুষ্যবিহীন যানটি টেক্সাসের স্টারবেজ কমপ্লেক্স থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। মিশনটি ১০ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও ইঞ্জিনের জটিলতার কারণে তা কমিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা করা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৫৮ মিনিটের দিকে রকেটটি প্রশান্ত মহাসাগরে আছড়ে পড়ে।
এর আগে দুটি মিশনে ল্যান্ডিং সফল না হলেও এবার সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাশূন্যে পৌঁছে দেওয়ার পর নিয়ন্ত্রিতভাবে মেক্সিকো উপসাগরে অবতরণ করে। তবে অবতরণের সময় বুস্টারের কয়েকটি ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছে স্পেসএক্স।
মহাশূন্যে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের প্রধান তিনটি ইঞ্জিনের একটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এর পরপরই স্পেসএক্সের মুখপাত্র ড্যান হুওট জানান, মহাকাশযানটি আর কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে না।
তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকৌশলীদের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেন হুওট। প্রকৌশলীরা নিশ্চিত করেন, রকেটের ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এখনও কক্ষপথে পৌঁছানো সম্ভব। এরপর স্টারশিপ সফলভাবে কক্ষপথে প্রবেশ করে।
কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি নেক্সট জেনারেশন স্টারলিঙ্ক উপগ্রহ স্থাপন করে স্টারশিপ।
স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ২৬টি স্টারলিঙ্ক ভি৩ স্যাটেলাইটই সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে এবং এগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে।
মিশনটি সংক্ষিপ্ত করার আগে স্টারশিপের পৃথিবীর চারপাশে ছয়বার প্রদক্ষিণ করার কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিনের গোলযোগের কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিরাপদে পুনঃপ্রবেশ নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ জন্য মহাকাশে থাকা অবস্থায় একটি রেপ্টর ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে যানটির গতিপথের কোণ ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হয়। স্টারশিপে মোট তিনটি মূল রেপ্টর ইঞ্জিন ছিল।



