কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, চাপে ভারত-পাকিস্তান-ইতালি-বাংলাদেশ
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১১:৩৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় এশিয়া ও ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা সরবরাহ স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত এলএনজি কার্গো নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল হতে পারে। ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইতালির জ্বালানি কোম্পানি এডিসন জানিয়েছে, কাতার থেকে তাদের এলএনজি সরবরাহ ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ ও রয়টার্স।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কাতারএনার্জি চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রেতাদের জানিয়েছে, এলএনজি কার্গো বাতিলের সিদ্ধান্ত নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারতের অন্তত একজন ক্রেতাকেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
কাতারএনার্জি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
প্রতি মাসেই বাড়ছে স্থগিতাদেশ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কাতারএনার্জি এলএনজি গ্রাহকদের সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করছে। প্রায় প্রতি মাসেই নির্ধারিত কিছু কার্গো বাতিল বা সরবরাহ স্থগিত করা হচ্ছে।
এর আগে দেওয়া ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ নোটিশের মেয়াদও ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। নতুন করে আরও এক মাস মেয়াদ বাড়ানোর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের এলএনজি ক্রেতাদের অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলো।
‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যেখানে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অন্য কোনো কারণে কোনো পক্ষ চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ বা দায়িত্ব পালন করতে না পারলে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তিগত দায় থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি পেতে পারে।
হরমুজ দিয়ে সরবরাহ বাড়লেও স্বাভাবিক হয়নি
চলতি মাসে কাতার হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি পরিবহন কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। গত বছর বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়েছিল।
ফলে প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে কাতারের রপ্তানির পাশাপাশি বৈশ্বিক এলএনজি বাজারেও সরবরাহ সংকটের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শীতের আগে গ্যাসের দাম বাড়ার আশঙ্কা
উত্তর গোলার্ধে শীত শুরু হতে বেশি সময় বাকি নেই। শীতকালে ঘরবাড়ি গরম রাখা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যায়।
এই সময়ে কাতারের মতো বড় সরবরাহকারীর এলএনজি রপ্তানি কমে গেলে বিকল্প উৎস থেকে গ্যাস সংগ্রহের জন্য ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাড়তি এলএনজি দামের প্রভাব বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ভোক্তা পর্যায়ের বিলেও পড়তে পারে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এর চাপ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের মতো এশীয় ক্রেতারা কাতারের এলএনজির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ফলে নভেম্বর পর্যন্ত সরবরাহ বাতিলের সিদ্ধান্ত এসব দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
রাস লাফানেও উৎপাদন কমেছে
হরমুজ সংকটের পাশাপাশি কাতারের এলএনজি উৎপাদন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। মার্চে হামলার পর দেশটির প্রধান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র রাস লাফান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকে সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা কমিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
তবে কাতারএনার্জি স্থাপনাটিকে এমনভাবে প্রস্তুত রাখছে, যাতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে গেলে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো যায়। অর্থাৎ হরমুজের বাধা দূর হলেও কাতারের এলএনজি সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, দ্য ন্যাশনাল নিউজ, ইউরোনেক্সট ও ডন নিউজ



