অনিয়মে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অনিয়মের অভিযোগে করা মামলায় এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পর গত জুলাইয়ে লাইসেন্স প্রত্যাহার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইনভঙ্গকারী রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় সিলগালা করা হয়েছে এবং নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈধ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশের রেমিট্যান্সে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবদানের কথা উল্লেখ করেন। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান তিনি।
মাইকেল মিলার নৈতিক ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’সহ বৈধ অভিবাসনের বিভিন্ন ব্যবস্থা জোরদারে ইইউ কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান ইইউ রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন গঠনের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে এসব কমিটি প্রতিবেদন দেবে।
সাক্ষাতে ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইইউর সহযোগিতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।



