বাংলাদেশের কনটেন্ট পৌঁছাবে বিশ্বে, গুগলের সাথে সহযোগিতার উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল দক্ষতা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায় গুগলের সাথে অংশীদারি গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বৈঠকে আমেরিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মোহাম্মদ জাবেদ ইকবালও অংশ নেন।
গুগলের পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন গুগল ফর এডুকেশনের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অপারেশনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট দিব্যা জানি। গুগলের নির্বাহী ও বিশেষজ্ঞরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানো এবং শিক্ষার ফলাফল উন্নত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ দক্ষতা উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারে বাংলাদেশ ও গুগলের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারির গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতার বাস্তব সুফল নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক শিক্ষার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল সংযোগ, উন্নত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা।
বৈঠকে সমন্বিত ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। এর আওতায় শিক্ষাব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর স্কুল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় উঠে আসে।
এ ছাড়া এআইনির্ভর শিক্ষক প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিরাপত্তা, শিক্ষক সনদ এবং শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। গুগলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, এআইনির্ভর শিক্ষা ও শিক্ষার ফলাফল পরিমাপের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আলোচনায় গুগল ওয়ার্কস্পেস ফর এডুকেশন, গুগল ক্লাসরুম, জেমিনি ফর এডুকেশন এবং প্রশিক্ষণ ও সনদের মাধ্যমে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন পদ্ধতিও উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এআই, ভার্চুয়াল লার্নিং, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সায়েন্সে সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী ও তরুণদের জন্য কাঠামোবদ্ধ প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর শিক্ষা, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সাথে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের সংযোগের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম জনশক্তির উৎস হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানীয় এআই ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ইউটিউব কনটেন্ট নির্মাতা বা ক্রিয়েটর ইকোসিস্টেম নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, উদ্যোক্তা কার্যক্রম ও সৃজনশীল কনটেন্টকে বৈশ্বিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে ক্রিয়েটরদের দক্ষতা, দায়িত্বশীল কনটেন্ট, ডিজিটাল নিরাপত্তা ও টেকসই আয় নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে শিক্ষা, এআই, ডিজিটাল দক্ষতা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল কনটেন্ট নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক উদ্যোগ চিহ্নিত করতে গুগল ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল গুগলের সাথে পরবর্তী যোগাযোগ এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করবে। আলোচনায় উঠে আসা বিষয়গুলোকে বাস্তব প্রস্তাব ও বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এ সমন্বয় করা হবে।



