দুই দশক পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬
দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির শেষ সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকেও মার্কিন সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০০৩ সালে ইরাকে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর পর দেশটিতে দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা ইরাক যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছেন। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সাথে প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাস্তবায়ন করছে।
ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন বাহিনীর এই প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। ইরাকের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সরে যাওয়ায় ইরান ও তার মিত্ররা দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে।
ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ে কাজ করা ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি বলেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা প্রত্যাহার ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে। তার মতে, এই সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ইরাকের ওপর তেহরানের প্রভাবের ভারসাম্য হিসেবে কাজ করেছে।
ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর কমান্ডার আবু মুজতবা আল-ইয়াসিরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ এবং আমেরিকার জন্য ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আবার সক্রিয় হতে পারে ইসলামিক স্টেট
মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার পর ইসলামিক স্টেট (আইএস) আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও উত্তরাঞ্চলের কুর্দি অঞ্চলের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা।
প্রায় এক দশক আগে আইএসের স্বঘোষিত খেলাফতের পতন হলেও সংগঠনটির গোপন নেটওয়ার্ক বা ‘স্লিপার সেল’ এখনো সক্রিয় রয়েছে। একসময় গোষ্ঠীটি ইরাকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা দখল করেছিল এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল।
কুর্দি কমান্ডার সিরওয়ান বারজানি বলেন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য, রসদ সহায়তা ও ড্রোনের উপস্থিতি না থাকলে ইসলামিক স্টেট আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তার দাবি, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের প্রত্যাহারের ঘোষণা আসার পর কয়েক সপ্তাহ ধরে আইএসের ‘স্লিপার সেল’-এর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে আত্মঘাতী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সন্দেহভাজন একটি আইএস সেল। তাদের মতে, এতে সংগঠনটি এখনো নিরাপত্তার ফাঁক কাজে লাগিয়ে হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে অভিযান চালায় আমেরিকা। ২০১১ সালের শেষে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলেও ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে তারা আবার ইরাকে ফিরে আসে। এবার সেই দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে।



