এবার কার হাতে উঠছে শান্তির নোবেল?
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৯:০৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাজির বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নাম আলোচনায় থাকলেও, তাঁদের বদলে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও যুদ্ধকবলিত মানুষের সুরক্ষায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরস্কারের জন্য বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন অসলোর পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকোন জারলো।
সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী নিবন্ধে জারলো বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার খ্যাতির প্রতিযোগিতা নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ কাজের বড় একটি অংশ প্রচারের আলোর বাইরে থেকে করা হয়। আদালত, যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষকে রক্ষায় কাজ করা মানবাধিকার ও মানবিক সংস্থাগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার আগামী ৯ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে। এ বছর ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে—এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি ও ৭৯টি সংগঠন রয়েছে। তবে মনোনীতদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে না নোবেল কমিটি।
জারলোর মতে, ট্রাম্পের নাম বাজির বাজারে আলোচনায় থাকলেও চলমান যুদ্ধ ও তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইভাবে ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে পুরস্কার দিলে তা সংঘাতের একটি পক্ষকে সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখা হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। এসব তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ, নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত নয়।
বাজির বাজারের হিসাবে সেভ দ্য চিলড্রেন, সুদানের ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) আলোচনায় রয়েছে। তবে নোবেল কমিটি কোনো প্রার্থীর সম্ভাবনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক পূর্বাভাস দেয় না।
জারলোর নিজের পছন্দের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন শক্তিশালী করতে এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য—এই নীতি প্রতিষ্ঠায় দুটি আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যুদ্ধাপরাধের তথ্য সংগ্রহকারী সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন জারলো। তাঁর নিবন্ধে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের (সিপিজে) তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ১৩২ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন, যা সংগঠনটির হিসাবে রেকর্ড সর্বোচ্চ।
এ ছাড়া যুদ্ধকবলিত শিশুদের নিয়ে কাজ করা সেভ দ্য চিলড্রেন, রাশিয়া ও অধিকৃত অঞ্চল থেকে শিশুদের ইউক্রেনে ফিরিয়ে আনার কাজে যুক্ত মাইকোলাইলা কুলেবার নেতৃত্বাধীন সেভ ইউক্রেন এবং সুদানে যুদ্ধের মধ্যেও খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়া ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমসের নামও তিনি উল্লেখ করেছেন।
জারলোর তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনও (আইএসএস)। তাঁর মতে, ভূরাজনৈতিক বৈরিতার মধ্যেও ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে আইএসএস আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।
তবে শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার কার হাতে উঠবে, তা জানা যাবে ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটির ঘোষণার পর।



