‘স্বৈরাচার ও গুপ্ত আবারও এক হয়েছে’ : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। আবারও স্বৈরাচার ও গুপ্ত দল এক হয়েছে। তারা বিগত সময়ও তলে তলে একসাথে ছিল। এ জন্য তাদের গুপ্ত দল বলা হয়।’
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং মসজিদের ইমাম, পুরোহিতদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যেভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তখন তারা কোথায় ছিল।’
তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের জন্য রাজনীতি করে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তাদের এই অপরাজনীতি দেশের মানুষ বুঝে গেছে। তারা যদি দায়িত্ব পায়, তারা নিজেদের জন্য কাজ করবে, দেশের জন্য কিছুই করবে না। নির্বাচনের আগে তারা বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছে। অথচ বেহেশত-দোজখের মালিক আল্লাহ।’
তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ যদি এসব বলে, তারা প্রকারান্তে আল্লাহর সাথে শিরক করে। আর যারা আল্লাহর সাথে শিরক করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করবে—এটাই স্বাভাবিক।’
তিনি বলেন, ‘তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে এক দফা-এক দফা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তাই যারা নিজেদের জন্য রাজনীতি করে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বহু বছর পর নানাবাড়ি ফেনীতে এসেছি। আমার মা নেই, আপনারাই আমাকে দেখে রাখবেন।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম সরকার গঠন করলে কৃষক-দিনমজুর, অসহায়-দুস্থ, মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সম্মানির ব্যবস্থা করব। তারা যাতে স্বাবলম্বী হয়, এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আর এই জন্যই আজ তাদের হাতে সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি দেশের উন্নয়নের রাজনীতি করে। বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে দেশের অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়েছিল। আমরা এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়েছি, যাতে কলকারখানাগুলো চালু হয়। আমার দেশের মানুষের যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। জনগণের মিনিমাম একটু সহযোগিতা করতে পারলে তারাই নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়তে পারবে।’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সামস, বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ চৌধুরী ইয়াসিন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভিপি, নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওবাদুদ ভূঁইয়া, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য সাকেরা আক্তার মুন্নি ও রেহানা আক্তার রানু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুর করিম, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশের ৭৭টি উপজেলায় কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এ সময় ফেনীর ১০ জন নারীকে ফ্যামিলি কার্ড, ১০ জন কৃষক-কিষানিকে কৃষক কার্ড এবং ১০ জন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতকে বার্ষিক সম্মানি ভাতা প্রদান করা হয়।



