দুই দফা ইনজেকশনেও মৃত্যু হয়নি, হাসপাতালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৮:৫৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও মারা যাননি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইক। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৮টায় ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন টেনেসির গভর্নর বিল লি।
পাইকের আইনজীবী জানিয়েছেন, প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইককে রাসায়নিক পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীদের জন্য নির্ধারিত কক্ষের পর্দা দুইবার বন্ধ করা হয়। একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা চলার সময় পাইকের আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে তা বন্ধের আবেদন করেন। আবেদনে তারা জানান, পাইক অচেতন হয়ে পড়েছেন, তবে তার হৃদস্পন্দন রয়েছে এবং তিনি নাক ডাকছেন।
পাইকের এক আইনজীবী বিবিসিকে জানান, ৫০ বছর বয়সী পাইককে হাসপাতালে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে ১৯৯৬ সালে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। তৎকালীন প্রেমিক ট্যাডারিল শিপের সাথে মিলে তিনি স্লেমারকে মারধর, নির্যাতন ও হত্যা করেন। সমস্যাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের জন্য একটি কর্মপ্রশিক্ষণ শিবিরে তাদের সঙ্গে স্লেমারের পরিচয় হয়েছিল।
পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইনি লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেয়।
এপি জানায়, টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রটোকল অনুযায়ী, প্রথম দফার ওষুধ দেওয়ার পর বন্দি মারা না গেলে দ্বিতীয় দফায় দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ওষুধের সিরিঞ্জ প্রস্তুত রাখা হয়। তবে দ্বিতীয় দফা দেওয়ার পরও বন্দি জীবিত থাকলে কী করা হবে, সে বিষয়ে প্রটোকলে কিছু বলা নেই।
মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গভর্নর বিল লি বলেন, ঠিক কী ঘটেছিল তা নির্ধারণ করতে তিনি একটি সমন্বিত তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বছর নির্ধারিত সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড আর কার্যকর করা হবে না।



