রক্তাক্ত অবস্থায়ও যাত্রীদের বাঁচাতে ককপিটের দরজা খুললেন পাইলট

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহকারী পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হয়েও ককপিটের দরজা খুলে দিয়েছিলেন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। এতে যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ভিডিও কলে কথা বলার সময় সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ ফ্লাইটে বুধবার এ ঘটনা ঘটে। উড্ডয়নের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বিমানের ভেতরে দুই পাইলটের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটে এবং বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে। ঘটনাটি সম্ভাব্য ছিনতাই ও বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগে তদন্তাধীন।

মোদির সাথে আলাপকালে মচ্ছার বলেন, তখন তিনি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলেন। গুরুতর আহত হয়ে মেঝেতে পড়ে যাওয়ার পর তার মনে হচ্ছিল, তিনি যদি আর উঠতে না পারেন, তাহলে বিমানে থাকা অন্যদের কী হবে।

তিনি বলেন, শেষ শক্তি দিয়ে তিনি ককপিটের দরজা খোলার চেষ্টা করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে নেন। পরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে সেটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার সময় বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করেছিল। সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, অল্প সময়ের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতা হারায়। পরে যাত্রী ও বিমানের অন্য পাইলটদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মচ্ছার মোদিকে বলেন, ‘আমি আমার জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। কিন্তু একই সাথে আমি এটাও জানতাম যে, আমি সবাইকে এভাবে মারা যেতে দিতে পারি না।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মচ্ছারের সাহস ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

হামলায় গুরুতর আহত মচ্ছারকে প্রথমে সৌদি আরবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ঘটনাটি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে।

ঘটনায় বিমানের সহকারী পাইলটের বিরুদ্ধে হামলা ও বিমানটি বিপদের মধ্যে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।