মিসর-ইথিওপিয়ার পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৩:০৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২, ২০২৬

মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে একজন মিসরীয় কূটনীতিককে বহিষ্কারের পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কায়রোতে নিযুক্ত এক ইথিওপীয় কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছে মিসর। তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মিসরের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেনার বরাত দিয়ে আল অ্যারাবিয়া জানিয়েছে, কায়রোতে ইথিওপীয় দূতাবাসের ওই কর্মকর্তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইথিওপিয়ার পাল্টা পদক্ষেপের জবাবে। ইথিওপীয় কূটনীতিকের নাম এগাজি এমেলো বোরুগি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ১ অক্টোবর ইথিওপিয়া আদ্দিস আবাবায় নিযুক্ত মিসরের কূটনৈতিক কর্মী আহমেদ মোহরাম আহমেদ সোলাইমানকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। ইথিওপিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিয়েনা কনভেনশনের আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওই কূটনীতিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা বহিষ্কারের কারণ জানানো হয়নি।

মিসরের একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাষ্য, ইথিওপিয়ার সিদ্ধান্ত ‘দুঃখজনক ও অযৌক্তিক’। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি সম্মান রেখে মিসর অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।

দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। এর এক দিন আগে ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ায় নিজেদের দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং আদ্দিস আবাবায় নিযুক্ত ১০ ইরিত্রীয় কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে। এর জবাবে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয়।

ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে, ইরিত্রিয়া, সুদান ও মিসর তিগ্রায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা একটি বিরোধী জোটকে সহায়তা করছে। তিন দেশই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় তিগ্রায় নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর ২০২২ সালের শান্তিচুক্তিতে সংঘাত থেমেছিল। সাম্প্রতিক লড়াই সেই শান্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে নীল নদের পানিবণ্টন নিয়েও দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস ড্যাম নিয়ে কায়রোর উদ্বেগ রয়েছে। এই পুরোনো বিরোধের সাথে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উত্তেজনা যুক্ত হওয়ায় দুই দেশের সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়নও সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিয়ে ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া ও মিসরকে সংযত থাকার এবং কূটনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।