প্রধানমন্ত্রীর বাসায় সৌরবিদ্যুৎ, গ্রিডে গেল ১২০০ ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের ছাদে স্থাপিত সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের এক হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার করেছেন এবং নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ২০০ ইউনিট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, গত তিন দিনে এই পরিমাণ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নিজস্ব চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবেও দেখার কথা বলেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ডিডি (এলজি)-দের অংশগ্রহণে ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভা’য় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।

মীর শাহে আলম বলেন, সমবায় ভবনসহ দেশের সব জাতীয় ও সরকারি ভবনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হবে। এসব স্থাপনার নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

আসন্ন দুর্গাপূজা সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইউএনওদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। এ কাজে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইউএনওদের জন্য ঐচ্ছিক ফান্ড দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষ তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য ইউএনওদের কাছে আসেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো মাঠপর্যায়ে ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড ও খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন তাঁরা সরাসরি তদারকি করছেন।

ডিসি সম্মেলনের মতো প্রতিবছর ইউএনওদেরও বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজনের প্রস্তাব দেন মীর শাহে আলম। এতে উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সমস্যা ও দাবি-দাওয়া সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।

বিএনপি সরকার জনগণের সরকার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কর্মকর্তাদের ভোটের প্রক্রিয়া প্রভাবিত করা বা বিতর্কিত নির্বাচনী পদ্ধতি অনুসরণের নির্দেশ দেবে না।

এ ছাড়া নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।