জমির নামজারিতে নতুন নির্দেশনা, আবেদন করবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ করতে নামজারি করা গুরুত্বপূর্ণ। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য নথিভুক্ত রাখা এবং ভবিষ্যতে বিরোধ এড়াতে এ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের অধিকার ও প্রাপ্য অংশ বিবেচনায় নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সাধারণভাবে, সব ওয়ারিশের নাম অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করা যায়। আর উত্তরাধিকারীরা জমি ভাগ করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করা জরুরি।

নামজারিতে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ

সব ওয়ারিশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত: উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির নামজারির আবেদনে সংশ্লিষ্ট সব ওয়ারিশের তথ্য এবং ওয়ারিশ সনদ দিতে হবে। কারও নাম বা প্রাপ্য অংশ বাদ পড়লে আবেদন নিষ্পত্তিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

বণ্টননামা ছাড়া যৌথ নামজারি: জমি আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ না হলে যৌথ নামজারির আবেদন করা যায়। শুধু বণ্টননামা নেই—এ কারণে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা উচিত নয় বলে ভূমি-সংক্রান্ত নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।

পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা: ওয়ারিশরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে আলাদা খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা এবং সংশ্লিষ্ট নথি প্রয়োজন হতে পারে।

নামজারির জন্য যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে

জমির ধরন ও মালিকানা অর্জনের পদ্ধতি অনুযায়ী কাগজপত্র ভিন্ন হতে পারে। সাধারণত প্রয়োজন হয়—

১. জমি কেনার ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিলের কপি।

২. আগের খতিয়ানের কপি।

৩. জমির দাগ নম্বর ও সংশ্লিষ্ট বিবরণ।

৪. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য।

৫. উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে ওয়ারিশ সনদ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মৃত্যুসনদ।

৬. জমি ভাগ করা থাকলে নিবন্ধিত বণ্টননামা।

৭. ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের দাখিলা এবং কর্তৃপক্ষের চাওয়া অন্যান্য নথি।

ভূমি প্রশাসনের নির্দেশনায় খতিয়ান, দলিল, ওয়ারিশ সনদ ও ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলাসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

অনলাইনে নামজারির আবেদন করবেন যেভাবে

নামজারির আবেদন অনলাইনে করা যায়। এ জন্য—

প্রথম ধাপ: ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট land.gov.bd থেকে ই-নামজারি সেবা নির্বাচন করুন।

দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনকারীর পরিচয়, জমির অবস্থান, খতিয়ান ও দাগ নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন।

তৃতীয় ধাপ: জমি কেনা, উত্তরাধিকার বা অন্য কোন সূত্রে পাওয়া—মালিকানা অর্জনের ধরন উল্লেখ করুন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির ক্ষেত্রে সব ওয়ারিশের তথ্য সঠিকভাবে দিন।

চতুর্থ ধাপ: প্রযোজ্য দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি নির্দেশনা অনুযায়ী সংযুক্ত করুন।

পঞ্চম ধাপ: আবেদন জমা দিয়ে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করুন। আবেদন নম্বর বা ট্র্যাকিং তথ্য সংরক্ষণ করুন।

ষষ্ঠ ধাপ: অনলাইনে আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করুন। ভূমি অফিস থেকে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হলে তা জমা দিন।

আবেদনের আগে সরকারি পোর্টালে দেওয়া সর্বশেষ নির্দেশনা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি যাচাই করা উচিত। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী, নামজারির আবেদনের কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদনের পর রেকর্ড হালনাগাদ ও খতিয়ান সরবরাহের ফি ১ হাজার ১০০ টাকা।

নামজারি না করলে কী সমস্যা হতে পারে?

জমি কেনার পর কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়ার পর ভূমি রেকর্ডে মালিকানার তথ্য হালনাগাদ না করলে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, জমি হস্তান্তর এবং মালিকানার তথ্য যাচাইয়ের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। জমি নিয়ে বিরোধ বা প্রতারণার আশঙ্কা দেখা দিলে সঠিক ও হালনাগাদ নথিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে নামজারি জমির চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণের একমাত্র প্রমাণ নয়। নিবন্ধিত দলিল, উত্তরাধিকার, দখল এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও মালিকানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নামজারির পাশাপাশি জমির মালিকানা-সংক্রান্ত সব নথি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।