জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
জাতীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও দেশের অগ্রগতি রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।
বুধবার সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার হতে হবে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত চলছে, তখন বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছে। এ সম্প্রীতি দেশের শক্তি ও অস্তিত্বের অংশ, যা যেকোনো মূল্যে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ হাজার বছর ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সব ধর্মের মানুষের সমান নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই এ দেশের নাগরিক। সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি আরও জানান, সবাই যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



