পুরি-পেঁয়াজুর দোকানেও লাগবে লাইসেন্স, কার্যকর ১ নভেম্বর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
রাস্তার পাশের পুরি-পেঁয়াজু ও পিঠার দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাধ্যতামূলক হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবিধানমালাটি গত ১৬ জুলাই সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাস্তার পাশের পিঠা, পুরি-পেঁয়াজুর দোকান ছাড়াও রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং নির্ধারিত শ্রেণির খাদ্য আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের নিবন্ধন নিতে হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার প্রথমবার নিবন্ধন বিনামূল্যে করা হবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুত, আমদানি ও বিপণনের ক্ষেত্রে ব্যবসার ধরন অনুযায়ী পৃথক লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
শিশুদের ফর্মুলা দুধ, বিশেষ পথ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক ও সম্পূরক খাদ্য, প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, জৈব-খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য এবং জিনগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত খাদ্যসহ নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে। শুধু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন থাকলেই এসব পণ্যের ক্ষেত্রে সব শর্ত পূরণ হবে না।
প্রবিধানমালায় নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, ১০০ বর্গমিটার বা তার কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের প্রিমিসেস লাইসেন্সের ফি ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের নতুন লাইসেন্সের ফি ৬০ হাজার টাকা। আবেদনকারীদের নিজ নিজ ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রযোজ্য ফি ও শর্ত যাচাই করতে হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট জেলা কার্যালয়ে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আবেদন করা যাবে। পরবর্তী সময়ে শতভাগ অনলাইন আবেদনব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর। মেয়াদ শেষে তা নবায়ন করতে হবে।
এ ছাড়া প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদক ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা সহজ হবে এবং প্রয়োজনে ভোক্তারা অভিযোগ জানাতে পারবেন।
নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন বিধিমালা কার্যকরের ফলে খাদ্য ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।



