গৌরনদীতে বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল একই পরিবারের ৩ জনের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০২৬

ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা হলো না আর। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীতে বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—বরিশালের উজিরপুর উপজেলার আব্দুল হাকিমের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ (৩৯), তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাদের শিশু কন্যা জান্নাত আক্তার।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, ফিরোজ মাহমুদ ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলে করে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে উজিরপুরের নিজ বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কের বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে তিনি মোটরসাইকেলটি থামিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক এই সময় পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা ‘তাজ আনন্দ পরিবহন’ নামের একটি বেপরোয়া বাস তাদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মা, বাবা ও শিশুর নির্মম মৃত্যু হয়।

বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর, তীব্র যানজট

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং ঘাতক বাসটি ভাঙচুর করে। তবে সুযোগ বুঝে বাসের চালক ও হেলপার কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর ও স্থানীয়দের বিক্ষোভের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সম্পূর্ণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সড়কের দুই পাশে মাইলের পর মাইল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, যাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঈদমুখী সাধারণ যাত্রীরা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের বক্তব্য

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি ইতিমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মহাসড়কের তীব্র যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে।” চালক ও হেলপারকে আটকে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পবিত্র ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা উজিরপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।