কেন আলোচনায় স্পেনের সেউতা ও মেলিইয়া?

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২৬

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সীমান্তঘেঁষা স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতায় মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রবেশ করেছেন। স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্পেনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের তাদের অংশে ৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৩০০ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে অথবা তাঁরা স্বেচ্ছায় মরক্কোতে ফিরে গেছেন।

অভিবাসীদের এই নজিরবিহীন ঢলে সেউতায় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। শহরটির মোট জনসংখ্যার তুলনায় মাত্র একদিনে প্রবেশকারীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি হওয়ায় সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করেছে স্পেন সরকার।

সেউতা ও মেলিইয়া উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত হওয়ায় ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয় অঞ্চল দুটি। উন্নত জীবন, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তার আশায় প্রতিবছর হাজারো মানুষ মরক্কো ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এই সীমান্ত পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষের সীমান্ত অতিক্রমের পেছনে শুধু অভিবাসনের চাপ নয়, রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। সম্প্রতি স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আলজেরিয়া সফরের পর মরক্কো-স্পেন সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। অনেকের ধারণা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে মরক্কো সরকার এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এ ঘটনাকে স্পেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, মানব পাচারকারী চক্র স্পেনের একটি আদালতের রায় নিয়ে গুজব ছড়িয়ে হাজারো মানুষকে সীমান্ত পেরোতে উৎসাহিত করেছে।

এদিকে ইতালি স্পেনের সঙ্গে শেনজেন ব্যবস্থায় সাময়িক কড়াকড়ির আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সও স্পেন সীমান্তে নিরাপত্তা ও তল্লাশি জোরদার করেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৩৫ হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই এ সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।