দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের দেশত্যাগে সংকটে অর্থনীতি

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৩৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসী শ্রমিকদের ব্যাপক দেশত্যাগে অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। জুনের শেষ দিকে শুরু হওয়া সহিংসতা ও অভিবাসনবিরোধী আন্দোলনের পর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার বিদেশি শ্রমিক দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। ফলে কৃষি, শিল্প, নির্মাণ ও গৃহসেবা খাতে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

কোয়াজুলু-নাটালের আখ উৎপাদন এলাকায় এর প্রভাব সবচেয়ে আগে দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, আখ কাটার শ্রমিকদের বড় একটি অংশ হঠাৎ করে চলে যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। এক কৃষক জানিয়েছেন, তিনি এক রাতেই ৮০ শতাংশ শ্রমিক হারিয়েছেন। এতে চিনি কারখানাগুলো চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে ফলের বাগান ও আঙুরক্ষেতেও। লেসোথো থেকে আসা শ্রমিকেরা চলে যাওয়ায় আঙুর কাটার মৌসুমে কাজ অনেকটাই থমকে গেছে। স্থানীয়রা এসব কাজে আগ্রহী নন বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা।

তবে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্বের হার ৩৩ শতাংশের বেশি। স্থানীয়রা কাজ করতে প্রস্তুত থাকলেও নিয়োগকর্তারা অভিবাসী শ্রমিকদের পছন্দ করেন। কারণ তারা তুলনামূলক কম মজুরিতে বেশি সময় কাজ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক চুক্তি বা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দাবি করেন না।

ডারবানের শিল্পাঞ্চলেও একই ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। মালাউই ও মোজাম্বিক থেকে আসা দক্ষ যন্ত্রচালকেরা চলে যাওয়ায় পোশাক কারখানাগুলো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হিমশিম খাচ্ছে। স্থানীয় শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন এক কারখানা ব্যবস্থাপক।

জনমত শান্ত করতে সরকার ‘স্থানীয়দের অগ্রাধিকার’ নীতি জোরদার করেছে। সম্প্রতি বিশ্বস্ত নিয়োগকর্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর আওতায় স্থানীয়দের নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ভিসা অনুমোদনের সুযোগ পাবে।

তবে কৃষি ও শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর দাবি, মৌসুমি শ্রমিক ছাড়া এসব খাত টিকিয়ে রাখা কঠিন। তারা আমেরিকার মতো মৌসুমি শ্রমিক কর্মসূচি চালুর দাবি জানিয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষক উন্নয়ন সমিতির প্রধান সিয়াবোঙ্গা মাদলালা বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা দক্ষিণ আফ্রিকান উন্নয়ন সম্প্রদায়ভুক্ত দেশগুলো থেকে মৌসুমি শ্রমিক আনার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারে। বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা অভিবাসীদের ৬০ শতাংশের বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান উন্নয়ন সম্প্রদায়ভুক্ত দেশগুলো থেকে আসেন।

তবে অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সহিংসতায় অন্তত চারজন বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

জিম্বাবুয়ের ওয়েইন চিমবাদজওয়া মুতাসা জানিয়েছেন, তিনি ২০১৪ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছিলেন। তবে সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

অন্যদিকে একই দেশের কৃষিশ্রমিক অ্যারন মাজাতামহে এখনো দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার মতো প্রয়োজনীয় অর্থ তার নেই।

অভিবাসী শ্রমিকদের দেশত্যাগের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্রমবাজার ও উৎপাদনব্যবস্থায় এর প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।