হুমকির মুখে ইউরোপের সীমান্তমুক্ত চলাচল, শেংগেন ব্যবস্থা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬
ইউরোপের সীমান্তমুক্ত চলাচলের অন্যতম প্রতীক শেংগেন ব্যবস্থা আবারও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মরক্কো থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সেউতায় প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইতালি স্পেনের সাথে শেংগেনের আওতায় সীমান্তমুক্ত চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্পেনও ইতালি থেকে আসা আকাশ ও সমুদ্রপথের যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
অভিবাসন ইস্যুতে দুই দেশের বিরোধ এখন শুধু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতেও বিভাজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতালি কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে স্পেন অভিবাসন মোকাবিলায় মানবিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইতালি ১ আগস্ট থেকে স্পেনের সাথে সীমান্তমুক্ত চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। দেশটির এই সিদ্ধান্তের আওতায় স্পেন থেকে যাওয়া যাত্রীদের পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। ইতালির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ব্যবস্থা অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এর জবাবে স্পেন ৮ আগস্ট থেকে ইতালি থেকে আসা আকাশ ও সমুদ্রপথের যাত্রীদের ওপর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শুরু করেছে। মাদ্রিদ জানিয়েছে, এই নিয়ন্ত্রণ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে। ইতোমধ্যে দেশটির ছয়টি বড় বিমানবন্দরে ইতালি থেকে আসা প্রায় ২০০ যাত্রীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে অভিবাসনের বড় চাপ সামলাতে হলেও দায়িত্ব ভাগাভাগি ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
সেউতায় বিপুলসংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীর প্রবেশের পর আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্পেনকে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।
শেংগেন ব্যবস্থা ইউরোপের অবাধ চলাচলের অন্যতম ভিত্তি। তবে নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন ও জনশৃঙ্খলার মতো গুরুতর পরিস্থিতিতে সদস্য দেশগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারে।
তবে স্পেন ও ইতালির সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ শেংগেন ব্যবস্থার রাজনৈতিক ও বাস্তব দুর্বলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। দুই দেশের বিরোধ তাই শুধু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের বিষয় নয়; এটি ইউরোপের অভিন্ন অভিবাসন নীতি এবং সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক আস্থার জন্যও একটি বড় পরীক্ষা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও ঐক্যবদ্ধ নীতি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা এ ঘটনায় আরও স্পষ্ট হয়েছে। সীমান্তমুক্ত চলাচল ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগি, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় অভিবাসন ও নিরাপত্তা সংকটের সময় শেংগেন ব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।



