নর্দায় ২ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:৫৮ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৬
রাজধানীর নর্দা এলাকায় দুই বাসের মর্মান্তিক সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১০ থেকে ১২ জন। আজ বুধবার (২৭ মে) সকাল ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) ও রবিউল (২২)। তাদের বাড়ি বাগেরহাটের মোংলা ও পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ এলাকায় বলে জানা গেছে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা ‘ইসলাম পরিবহন’-এর একটি বাস নর্দা এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। বেপরোয়া গতির বাসটি সড়ক বিভাজক (রোড ডিভাইডার) ভেঙে বিপরীত লেনে চলে যায় এবং উত্তরা থেকে গুলিস্তানগামী ‘আকাশ পরিবহন’-এর একটি বাসকে জোরালো ধাক্কা দেয়। এতে দুটি বাসই দুমড়েমুচড়ে যায়। আকাশ পরিবহনের বাসে যাত্রী বেশি থাকায় হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসাধীন আহতরা
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নেসার উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
“নতুন বাজারের নর্দা এলাকায় সকালে সড়কে বেশ ভিড় ছিল। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা ইসলাম পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারের ওপর উঠে বিপরীত লেনের বাসে ধাক্কা দেয়।”
— নেসার উদ্দিন, উপপরিদর্শক, ভাটারা থানা
পলাতক চালক-হেল্পার, সড়কে তীব্র যানজট
দুর্ঘটনার পরপরই ঘাতক ইসলাম পরিবহনের বাসের চালক ও হেল্পার পালিয়ে যান। তাদের আটকে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে, ঈদের আগমুহূর্তে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে প্রগতি সরণির ওই অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ঈদে ঘরমুখী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।



