একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে শীর্ষ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:০৯ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বৈশ্বিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ও বড় বড় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে তাদের ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত বা কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার কারণে ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী অনেক ফ্লাইট এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী— দুবাই, বাগদাদ, এরবিল, তেল আবিব, বৈরুত, দোহা, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ বা সীমিত করতে বাধ্য হয়েছে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা।
ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিতের তালিকায় যেসব জায়ান্ট এয়ারলাইনস:
চলমান সামরিক উত্তেজনা ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিমান সংস্থাগুলো কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে সতর্ক অবস্থান বেছে নিয়েছে। বিশ্বখ্যাত কিছু এয়ারলাইনসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিচে দেওয়া হলো:
লুফথানসা গ্রুপ (জার্মানি): বাগদাদ, তেহরান, বৈরুত, দুবাই ও রিয়াদসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধের সময়সীমা আরও বাড়িয়েছে।
এজিয়ান এয়ারলাইনস (গ্রিস): দুবাইগামী সব ফ্লাইট আগামী আগস্টের শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছে। এছাড়া ইরাকের বাগদাদ ও এরবিল রুটেও জুলাই পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পেগাসাস এয়ারলাইনস (তুরস্ক): ইরাক, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, রিয়াদ ও আবুধাবিগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।
অন্যান্য শীর্ষ সংস্থা: এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম (KLM), জাপান এয়ারলাইনস, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ এবং এয়ার কানাডাও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে তাদের ফ্লাইট পুরোপুরি বাতিল বা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে।
আকাশপথে বড় প্রভাব, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা
“চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ এখন বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো যাত্রী ও বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
— বিমান চলাচল বিশ্লেষকবৃন্দ
এই গণ-ফ্লাইট বাতিলের জেরে মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং এই রুট ব্যবহারকারী হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। টিকিটের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহারের কারণে এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বহুলাংশে বেড়ে যাচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ওপর একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



