আদ্-দীনের করিডোরে স্বজনদের বুকফাটা কান্না
এসি গ্যাস লিকেজে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, মে ২৭, ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দীন হাসপাতালে এক মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এয়ার কন্ডিশনারের (এসি) গ্যাস লিকেজের কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট ও জটিলতা দেখা দিয়ে একে একে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (২৭ মে ২০২৬) ভোরে এই ঘটনা ঘটে।
স্বজনদের কান্নায় হাসপাতালের করিডোরে এক আবেগঘন ও ভারী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিভৃতে চলে যাওয়া ছোট প্রাণগুলোর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের চরম অবহেলাকে দায়ী করছেন।
যেভাবে ছড়াল আতঙ্ক
হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালের আলো ফোটার আগেই হাসপাতালের একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে এসি থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে ওয়ার্ডের ভেতরের বাতাস বিষাক্ত ও ভারী হয়ে ওঠে। সেখানে চিকিৎসাধীন ছোট ছোট শিশু ও নবজাতকদের শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র জটিলতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চিকিৎসক ও নার্সরা দ্রুত ছুটে আসেন এবং শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে এনআইসিইউ ও আইসিইউতে স্থানান্তর করা শুরু হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিক চিকিৎসার সব চেষ্টা ব্যর্থ করে একে একে নিস্তব্ধ হয়ে যায় ৬টি শিশু।
স্বজনদের অবহেলার গুরুতর অভিযোগ
ঘটনার পর ক্ষোভে ও শোকে ফেটে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। চিকিৎসায় চরম অবহেলা এবং রাতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
এক শিশুর দাদীর অভিযোগ: “চিকিৎসকেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে আমাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলা উচিত ছিল। আমার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় এবং ওষুধ কেনার জন্য কয়েক হাজার টাকা খরচও করানো হয়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানতে পারি, শিশুটি আর বেঁচে নেই। রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না। বাচ্চারা সারারাত কান্না করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।”
সন্তানহারা এক মায়ের আর্তনাদ: “রাতে ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশুই অনবরত কান্না ও বমি করছিল। আমরা কেউ বুঝতে পারছিলাম না কী ঘটছে। সকালে শিশুর অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাকে বাইরে নেওয়া হয়। পরে এনআইসিইউতে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে আশ্বস্ত করলেও, কিছু সময়ের মধ্যেই আমার শিশুর মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থান
গ্যাস লিকেজের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং এর ফলে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঘটনার সঠিক কারণ এবং রাতে ডিউটি ডাক্তার বা নার্সের অবহেলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



