জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব: ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিযান

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

ডেল্টা আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।  ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে কঠোর হওয়া এই অবস্থানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় একাধিক বার্থ ট্যুরিজম চক্র শনাক্ত ও বন্ধ করার দাবি করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করতে পারবেন না।  এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার চরম অপব্যবহার হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে।  অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নথিপত্র ও তথাকথিত ‘ভিসা ফিক্সারদের’ সহায়তায় এসব ব্যক্তি মার্কিন ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়।  পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পর সংশ্লিষ্ট সবার ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।  একই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অনুরূপ আরও নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে।

অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে ইউরোপেও।  সেখানে ২০২৪ সাল থেকে ৪০০টির বেশি সন্দেহজনক বার্থ ট্যুরিজম ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  দীর্ঘ তদন্তে অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।  অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীদের ভিসা সাক্ষাৎকারে কী বলতে হবে তা শেখানো, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ব্যবস্থা করা এবং সন্তান জন্মদানের পুরো পরিকল্পনা সাজিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল।  স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ইতিমধ্যে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জালিয়াতির সাথে যুক্ত কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত আরেকটি মার্কিন দূতাবাস বার্থ ট্যুরিস্ট হিসেবে সন্দেহভাজন ১০০টির বেশি ব্যক্তির ভিসা বাতিল করেছে।  মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, উন্নত তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সহায়তায় এসব নেটওয়ার্ক দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এই অভিযান প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ।”  ভিসা জালিয়াতি ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সব ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বিশ্বজুড়ে এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।