ইউরোপে চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে অবৈধ অভিবাসন কমেছে ৪০ শতাংশ
ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ইইউ-এর সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড এজেন্সি ‘ফ্রন্টেক্স’ (Frontex) তাদের সর্বশেষ প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ইউরোপের সীমান্তগুলোতে প্রায় ৩৯ হাজার অনিয়মিত বা অবৈধ পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
অভিবাসন কমে আসার মূল কারণ: সীমান্ত সংস্থাটি বলছে, ইউরোপের অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসীদের যাত্রার প্রধান উৎসদেশগুলোতে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যার ফলে অবৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের এই মেগা ট্রেন্ডে বড় ধরণের পরিবর্তন ও ধীরগতি এসেছে।
নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ কার্যকর: অবৈধ অভিবাসনের এই লাগাম টেনে ধরার পেছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদ্য কার্যকর হওয়া নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ বড় ভূমিকা রাখছে। এই নতুন চুক্তির আওতায় ইইউ সীমান্তে প্রবেশ করা সমস্ত অভিবাসীদের জন্য একটি অভিন্ন ও মানসম্মত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হান্স লেইটেনস এই নতুন নিয়মের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “নতুন এই কাঠামোর ফলে ইইউ সীমান্তে এখন সবার ক্ষেত্রে একই কড়া মানদণ্ড মেনে চলা হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তি সব সদস্য দেশকে একই আইনি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে এসেছে।”
কোন রুটে বাড়ল, কোন রুটে কমল: ফ্রন্টেক্সের পরিসংখ্যান বিশদ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—
-
সবচেয়ে ব্যস্ত পথ: মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলো এখনো ইউরোপে প্রবেশের জন্য মানবপাচারকারীদের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
-
সবচেয়ে বড় হ্রাস: অন্যদিকে, আফ্রিকান রুটে অভিবাসীদের চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। এই রুটে অনিয়মিত পারাপার গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
-
সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি: তবে আশঙ্কাজনক চিত্র দেখা গেছে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে। এই পথ দিয়ে অবৈধ পারাপার শতাংশের হিসেবে প্রায় ৪৬ ভাগ বেড়েছে।
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত: অবৈধ প্রবেশ কমলেও থামেনি সমুদ্রযাত্রার নির্মম ট্র্যাজেডি। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) বরাতে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ বছরে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন ভাগ্যবিদ্বেষী অভিবাসীর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্ক্রিনিং আইন ও রুটভিত্তিক কড়াকড়ির কারণে অবৈধ পারাপার সাময়িক কমলেও, মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে উন্নত জীবনের আশায় এখনো মানুষ জীবন বাজি রেখে ইউরোপের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি



