যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব আবেদন ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসরত লাখো অভিবাসীর জন্য নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। নাগরিকত্ব আবেদনপত্র বা এন-৪০০ ফরম জমা দেওয়ার ফি প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)।

বর্তমানে গ্রিন কার্ডধারীরা এই ফরমের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে থাকেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে আবেদন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ফি বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করা হতে পারে। আর অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৮০ ডলারে উন্নীত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

শুধু আবেদন ফি বাড়ানোই নয়, বর্তমানে নিম্ন আয়ের যেসব আবেদনকারী আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কম ফি বা ফি মওকুফের সুবিধা পান, সেই সুযোগও বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল অভিবাসীরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে অনেক গ্রিন কার্ডধারী নাগরিকত্বের আবেদন বিলম্বিত করতে পারেন। কেউ কেউ তাদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন পরিকল্পনাও পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারেন।

এ প্রস্তাবের প্রভাব ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের ওপরও পড়তে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ লাখের বেশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি ও ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন। ২০২৪ সালে প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ ভারতীয় বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা লাভ করেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকত্ব শুধু ভোটাধিকার বা পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয় নয়; এটি কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। ফলে আবেদন ব্যয় বৃদ্ধি অনেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

তবে প্রস্তাবটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, এটি জনমত গ্রহণের ধাপ অতিক্রম করবে। এ সময় নাগরিক, অধিকারকর্মী, আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠন তাদের মতামত জানাতে পারবেন। পরে সব মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ কারণে নাগরিকত্ব আবেদন ফি বৃদ্ধির আলোচনা শুরু হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হতে এখনও কিছু সময় লাগতে পারে। তবে প্রস্তাবটি ইতোমধ্যেই অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।