মানব পাচার ঠেকাতে আমেরিকার নতুন বৈশ্বিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬
মানব পাচার, সাইবার প্রতারণা এবং সেক্সটরশনের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে নতুন বৈশ্বিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি চালু করেছে আমেরিকা। নতুন এই নীতির আওতায় শুধু অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরাই নয়, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তাদের পরিবারের সদস্যরাও আমেরিকার ভিসা পাওয়ার অযোগ্য হতে পারেন।
আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ২৪ জুলাই এ নীতির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সাইবার প্রতারণা ও সেক্সটরশন এখন বৈশ্বিক অপরাধে পরিণত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে শুধু আমেরিকান নাগরিক নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো আমেরিকান নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম দুর্বল করা এবং মানব পাচার ও অনলাইন প্রতারণা দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
নতুন নীতির আওতায় সাইবার প্রতারণা, সেক্সটরশন বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধেও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, এর ফলে অপরাধী চক্রগুলোর ওপর সামাজিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হবে এবং তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও চলাচল সীমিত হবে।
আমেরিকার কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভুয়া পরিচয়ে অর্থ আদায়, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, ডিজিটাল প্রতারণা এবং সেক্সটরশনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ নয়, ভিসা ও কূটনৈতিক নীতিকেও হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
তবে নতুন এ নীতি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, অপরাধে সরাসরি জড়িত না থাকা পরিবারের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ন্যায়সংগত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে আমেরিকার অবস্থান হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে কঠোর ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ প্রয়োজন, আর সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই নতুন বৈশ্বিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা নীতি কার্যকর করা হচ্ছে।



