কানাডায় নতুন নাগরিকদের সার্টিফিকেট ফেরত চাওয়া হচ্ছে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৫৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২৬

কানাডার সম্প্রসারিত নাগরিকত্ব আইনের আওতায় সম্প্রতি নাগরিকত্ব পাওয়া কিছু নতুন নাগরিককে আবারও নথি যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির নাগরিকত্ব কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বেশ কয়েকজন নতুন নাগরিককে ইমেইল পাঠিয়ে তাদের নাগরিকত্ব সনদ (সার্টিফিকেট) ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১৩ জুন পাঠানো ওই ইমেইলে বলা হয়, সম্প্রসারিত নাগরিকত্ব আইনের আওতায় অনুমোদিত কিছু আবেদন পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের নাগরিকত্ব সনদ সাময়িকভাবে ফেরত দিতে বলা হয়েছে।

কানাডার নাগরিকত্ব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নয়। বরং আবেদনকারীদের জমা দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুনরায় মূল্যায়নের সময় আবেদনকারীরা অতিরিক্ত নথি ও তথ্য জমা দিতে পারবেন।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু আবেদনকারী বংশানুক্রমিক নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে মূল সরকারি উৎসের পরিবর্তে বিভিন্ন বংশতালিকা ওয়েবসাইটের তথ্য বা অননুমোদিত নথি ব্যবহার করেছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি অনুপস্থিত থাকলেও তার ব্যাখ্যা যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি।

নাগরিকত্ব আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নাগরিকত্বের অধিকারী কি না, সে বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে নাগরিকত্ব নিবন্ধক (রেজিস্ট্রার) সার্টিফিকেট ফেরত চাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে আবেদনকারীকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বংশানুক্রমিক নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সঠিক নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জন্মনিবন্ধন, সরকারি আর্কাইভ, ভিটাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে বংশপরিচয়ের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে আবেদন পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে।

যারা ইতোমধ্যে এ ধরনের নোটিশ পেয়েছেন, তারা নতুন তথ্য-প্রমাণ জমা দিতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট চিঠিতে সাধারণত কোন কারণে আবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিও উল্লেখ করা থাকে। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে জমা দিলে নাগরিকত্বের দাবি আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি নতুন নাগরিকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হলেও এটি মূলত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার অংশ। সঠিক উৎস থেকে নথি সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান এবং প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তারা আরও বলেন, নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে প্রমাণের মান ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের উচিত শুরু থেকেই সরকারি উৎসের নথি ব্যবহার করা এবং আবেদনপত্রে কোনো তথ্যের ঘাটতি থাকলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা।