চাপে বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীরা
কানাডায় অনিশ্চয়তায় ২৯ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২৬
কানাডায় অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অস্থায়ী বাসিন্দাদের ওপর। দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা (Permanent Resident–PR) গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও কর্মীও রয়েছেন।
কানাডার সর্বশেষ অভিবাসন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটি ৩ লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা এই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সবাই স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন না বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকেরা।
সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন Post-Graduation Work Permit (PGWP)-ধারীরা। তাঁদের অনেকের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ আগামী মাসগুলোতে শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন ওয়ার্ক পারমিট, অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস বা স্থায়ী বাসিন্দার অনুমোদন না পেলে তাঁদের কানাডায় থাকার সুযোগ সংকুচিত হতে পারে।
এছাড়া, ওয়ার্ক পারমিটধারীদের স্টাডি পারমিট ছাড়া পড়াশোনার অস্থায়ী সুবিধাও ২৭ জুন থেকে শেষ হচ্ছে। ফলে যাঁরা এই সুবিধা ব্যবহার করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা সরকার সামগ্রিকভাবে অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমিয়ে অভিবাসন ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত করতে চায়। এর ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ আগের তুলনায় আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২৯ লাখ অস্থায়ী বাসিন্দার সবাই কানাডা ছাড়তে বাধ্য হবেন—এমন কোনো সরকারি ঘোষণা নেই। অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী নতুন ওয়ার্ক পারমিট, স্টাডি পারমিট, স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অথবা অন্য বৈধ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে কানাডায় থাকার সুযোগ পেতে পারেন।
বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কানাডায় যেতে ইচ্ছুকদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আবেদন করার আগে সর্বশেষ অভিবাসন নীতি, ভিসা শর্ত এবং স্থায়ী বসবাসের সম্ভাবনা সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



