বিতর্কে অস্ট্রেলিয়া
অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্ক চললেও দেশটিতে অভিবাসনের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট কোনো জাতীয় পরিকল্পনা গড়ে ওঠেনি। ফলে অভিবাসন নীতি মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ডেইলি প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন নিয়ে বিভিন্ন মহলের মতামতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। কেউ বছরে শূন্য অভিবাসন চান, কেউ ১ লাখ ৩০ হাজারের পক্ষে, আবার কেউ আবাসন নির্মাণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন নির্ধারণের কথা বলছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ট্রেজারির দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস অনুযায়ী বছরে ২ লাখ ২৫ হাজার অভিবাসনের লক্ষ্যকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে কিছু বিশেষজ্ঞ বছরে ৩ লাখের বেশি অভিবাসীর পক্ষে মত দিয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন (NOM), যা দেশটিতে আগমন ও প্রস্থানের ব্যবধানের মাধ্যমে জনসংখ্যার নিট পরিবর্তন নির্দেশ করে। ২০২৫ সালে NOM ছিল ৩ লাখ ১ হাজার, যা ২০২৪ সালের ৩ লাখ ৩০ হাজার থেকে কিছুটা কম। তবে ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু NOM-এর ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন পরিকল্পনা করা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ এই পরিসংখ্যানের ওপর কর্মরত পর্যটক, অস্ট্রেলীয় নাগরিক এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের আসা-যাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় প্রভাব ফেলে, যার অনেকটাই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এদিকে অভিবাসন ও আবাসন সংকট নিয়েও দেশটিতে বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে, অভিবাসন বাড়লে আবাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী অভিবাসীদের তুলনায় অস্থায়ী অভিবাসীরা ভাড়া বাজারে বেশি প্রভাব ফেলেন, বিশেষ করে সিডনি ও মেলবোর্ন-এর বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এলাকায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি বর্তমানে অস্থায়ী অভিবাসীদের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। ২০২৫ সালে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক, অস্থায়ী দক্ষ কর্মী এবং কর্মরত পর্যটকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার। বিপরীতে স্থায়ী দক্ষ কর্মীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৩ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ দক্ষ পেশার চাকরি অস্থায়ী অভিবাসীদের মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে। কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আতিথেয়তা খাতে তাদের অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন নীতি নির্ধারণে কেবল সংখ্যার ওপর জোর না দিয়ে শ্রমবাজারের চাহিদা, আবাসন, অবকাঠামো, জ্বালানি, শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নসহ সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তাদের আশা, ২০২৬ সালের জনগণনা থেকে অস্থায়ী অভিবাসীদের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত অভিবাসন নীতি প্রণয়ন করা সম্ভব হবে।



