সীমান্তে তল্লাশি বেআইনি ঘোষণা জার্মান আদালতের

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২৬

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্তে জার্মান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও তল্লাশিকে বেআইনি ঘোষণা করেছে দেশটির মিউনিখের একটি প্রশাসনিক আদালত। আদালত বলেছে, বিশেষ করে অস্ট্রিয়া সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই তল্লাশি শেনজেন অঞ্চলের সংশোধিত আইনগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তবে আদালত ভবিষ্যতে এসব তল্লাশি পুরোপুরি বন্ধ করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে রায়ে বলা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

আদালত জানায়, শেনজেন এলাকার আইনি কাঠামো সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হলেও অস্ট্রিয়া সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের সীমান্ত তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে, যা বর্তমান বিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

শেনজেন চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৫টি সদস্যরাষ্ট্র এবং আইসল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভিসামুক্ত ও অবাধ চলাচলের সুবিধা পান। সাধারণভাবে এসব দেশের অভ্যন্তরীণ সীমান্তে নিয়মিত তল্লাশির বিধান নেই।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকানোর যুক্তিতে জার্মানিসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ সীমান্তে অস্থায়ী নজরদারি ও পরিচয় যাচাই কার্যক্রম জোরদার করে।

এই তল্লাশির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিন ব্যক্তি জার্মান ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তাদের একজন, অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোপীয় আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ভের্নার শ্র্যোডার, অভিযোগ করেন যে ২০২৫ সালে অস্ট্রিয়া-জার্মানি সীমান্তে তাকে এবং তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছিল, যা ইউরোপীয় আইনের পরিপন্থী।

মামলার আরেক বাদী, এক নাইজেরীয় নাগরিক, অভিযোগ করেন যে ট্রেনে ভ্রমণের সময় কেবল তার গায়ের রঙের কারণেই তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়। তার দাবি, তিনি বর্ণগত বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন সোসাইটি ফর সিভিল রাইটস জানায়, ওই যাত্রায় তিনিই একমাত্র যাত্রী ছিলেন, যাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়েছিল।

অন্য বাদী, অস্ট্রিয়ার আইনজীবী হুবার্ট নিডারমায়ার, জানান সীমান্ত এলাকায় তাকে একাধিকবার তল্লাশির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তার ভাষায়, বিদ্যমান আইন ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক।

আদালতের এই রায় জার্মানির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং শেনজেন অঞ্চলে অবাধ চলাচল নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।