মানব পাচারের আশঙ্কায় বিদেশগামী ১৯৮ নারীকে আটকাল কম্বোডিয়া

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:০৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২৬

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মানব পাচারের আশঙ্কায় বিদেশগামী ১৯৮ জন কম্বোডিয়ান নারীকে যাত্রার আগেই আটকে দিয়েছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। কর্মকর্তাদের ধারণা, চাকরি ও বিদেশি নাগরিককে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারকারী চক্র তাদের বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

কম্বোডিয়ার জেনারেল ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন জানিয়েছে, বিমানবন্দর ও সীমান্তে নিয়মিত তল্লাশি এবং সাক্ষাৎকারের সময় অনেক নারীর বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য, কর্মসংস্থান বা ভ্রমণ পরিকল্পনা অস্পষ্ট পাওয়া যায়। সন্দেহজনক পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের বিদেশ যাত্রা স্থগিত করা হয়।

মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি ফর কাউন্টার ট্রাফিকিংয়ের চেয়ারম্যান ও উপপ্রধানমন্ত্রী সার সোখা বলেছেন, পাচারকারী চক্র এখন আরও কৌশলী হয়ে উঠেছে। তারা উচ্চ বেতনের চাকরি, বিদেশে ভালো জীবন কিংবা বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলছে। পরে অনেকেই জোরপূর্বক শ্রম, প্রতারণা কিংবা বিভিন্ন ধরনের শোষণের শিকার হন।

তিনি জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম সতর্কতাই মানব পাচার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে বিদেশে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ হাজারের বেশি কম্বোডিয়ান নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া মানব পাচারকারী চক্রের হাত থেকে ১৮০ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই বিদেশে বিয়ে বা চাকরির প্রলোভনে প্রতারিত হয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষ বিদেশে চাকরি বা বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তা, এজেন্সি এবং নথিপত্র ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি বৈধ সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে।