স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৫০
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
স্পেনে দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এ দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জন বলে জানানো হয়েছিল।
দুই বগি লাইনচ্যুত, আহত বহু যাত্রী
কাস্তিলা-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, সকাল ৯টার কিছু পরে ট্রেন দুটির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। মোর ও অরগাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার সময় দুটি ট্রেনে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন। তবে কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে যাত্রীর সংখ্যা ৫০০ বলা হয়েছে।
মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেনফে ও ইরিয়ো কম্পানির দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ধারণা, আদিফের এক কর্মীর ভুলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
ট্রেনের বগি খাদে, চলছে উদ্ধারকাজ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, ট্রেনের কয়েকটি বগি উল্টে খাদে পড়ে আছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫৪ বছর বয়সী জেসুস জেরোনিমো স্পেনের সংবাদপত্র এল পাইসকে বলেন, দুর্ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। এ সময় ট্রেন থেকে যাত্রীরা ছিটকে পড়ে যান।
আরেকজন বেঁচে যাওয়া যাত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম, আমাদের ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে। পরে ধীরে ধীরে বাইরে বেরিয়ে দেখি, ট্রেনটি একদিকে কাত হয়ে আছে। সেখানে অনেক মানুষ আহত হয়েছিলেন। অনেকেই প্রচণ্ড আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।’
শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর, জরুরি সেবা জোরদার
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তোলেদোতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার ও জরুরি সেবা দিতে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিল ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ঘটনাস্থলে সহায়তার জন্য সাতটি অগ্নিনির্বাপক যান পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধারে বিশেষভাবে ব্যবহৃত দুটি যান, দুটি পানির পাম্প এবং একটি উদ্ধারকারী যান রয়েছে।
জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে পাঠানো হয়েছে ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স। এর মধ্যে আটটি উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য এবং বাকি আটটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স। দুটি জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার প্রায় ১০০ জন কর্মী উদ্ধার, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।



