বেলজিয়ামে আশ্রয়সংকটের মধ্যে কমছে শিশুদের আবাসনসুবিধা
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬
বেলজিয়ামে অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের জন্য নির্ধারিত ৫৬০টি আশ্রয়শয্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শরণার্থীবিষয়ক কেন্দ্রীয় সংস্থা ফেদাজিল। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে এ শ্রেণির শিশুদের জন্য দেশজুড়ে থাকা মোট ২ হাজার ৫০০ আশ্রয়শয্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমে যাবে। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অভিবাসী ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন।
গত ২৩ অক্টোবর ফেদাজিল সিদ্ধান্তটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের আগমন কমে যাওয়ায় আশ্রয় সক্ষমতা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো আশ্রয়কেন্দ্র স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না। বরং বিভিন্ন কেন্দ্রে শয্যার সংখ্যা কমিয়ে রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে চাহিদা বাড়লে সেগুলো দ্রুত আবার চালু করা যায়।
ফেদাজিলের দাবি, অতীতে চাহিদা সামাল দিতে অতিরিক্ত আশ্রয়কেন্দ্র চালু করতে বিপুল অর্থ ও জনবল বিনিয়োগ করতে হয়েছিল। পরে চাহিদা কমে গেলে কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে সেই ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি অব্যবহৃত কিছু শয্যা পরিবার ও অন্যান্য আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে অধিকারকর্মীদের মতে, অভিভাবকহীন শিশুদের আগমন কমলেও বেলজিয়ামের সামগ্রিক আশ্রয়ব্যবস্থায় চাপ রয়ে গেছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে আশ্রয়ের আবেদনকারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের সংকট অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, গত গ্রীষ্মে জরুরি আশ্রয়ের আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। জুলাইয়ে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবারকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। আশ্রয় না পাওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে শত শত শিশুও ছিল, যাদের অনেকেই খুব অল্পবয়সী।
এদিকে রাজধানী ব্রাসেলসে জরুরি আশ্রয়শয্যা কমানোর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। মানবিক সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতিতে আশ্রয়সুবিধা আরও কমানো হলে শহরটিতে আবার অস্থায়ী তাঁবু ও শিবির গড়ে উঠতে পারে।
বেলরিফিউজিস জানিয়েছে, জরুরি আশ্রয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় ইতোমধ্যে দেড় হাজারের বেশি মানুষের নাম রয়েছে। সংস্থাটি অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচালিত আমরান কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করেছে। ২০২২ সালে চালু হওয়া কেন্দ্রটিতে ৬৬ জন তরুণকে আবাসন, শিক্ষা, সামাজিক ও আইনি সহায়তা দেওয়া হতো। কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ায় প্রায় ২০ জন কর্মীও চাকরি হারিয়েছেন।
মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয়শয্যা কমানোর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক মনে হলেও পর্যাপ্ত বিকল্প আবাসন নিশ্চিত করা না গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর। বিশেষ করে পরিবার ও শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকলে মানবিক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফেদাজিল জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে আশ্রয়সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় আশ্রয়ব্যবস্থা সংকুচিত না করে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।



