সুদানে দুর্ভিক্ষের শঙ্কা! জরুরি সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের
ডেল্টা আর্ন্তজাতিক
প্রকাশিত: ৫:২৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬
গৃহযুদ্ধকবলিত সুদানে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েক ডজন দেশ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে সব ধরনের বাধা দূর করতে সংঘাতের পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুদানে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে সতর্ক করেছে খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন বা আইপিসি।
বিবৃতিতে সুদানের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির অবনতিশীল খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলমান কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ত্রাণ পৌঁছানোর বাধা দূর করার আহ্বান
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুদানের জনগণের দুর্ভোগ কমানোর প্রধান দায়িত্ব সংঘাতের পক্ষগুলোর। তাই মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথে সব বাধা দূর করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্ত পেরিয়ে এবং সংঘাতের বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা দিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দিতে হবে।
বিশেষ করে দারফুর অঞ্চলে আকাশপথে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুদানের সর্বত্র ত্রাণকর্মীদের উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশগুলো।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধে গভীর হচ্ছে মানবিক সংকট
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। বেসামরিক শাসনে উত্তরণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই বাহিনীকে কীভাবে একীভূত করা হবে, তা নিয়ে বিরোধের জেরে যুদ্ধ শুরু হয়।
জাতিসংঘ-সমর্থিত আইপিসি গত জুনে জানিয়েছিল, সুদানে ৫১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে রয়েছেন। গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষকেরা ফসল কাটাসহ কৃষিকাজে নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক খরা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশ ও প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইউরোপীয় কমিশনের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি।
দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে সুদানে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।



