সাজেক সড়কে সংঘর্ষ ও গোলাগুলি, দিঘীনালার পথে পর্যটকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২৬

রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। এর আগে সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, পর্যটকেরা দিঘীনালা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছেছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরোধের ব্যারিকেড সরিয়ে পর্যটকদের গাড়িবহর এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজনা তৈরি হয়। অবরোধকারীরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে গোলাগুলি শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

উজোবাজারে অবস্থানরত বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে নিয়ে যাওয়ার পথে গাড়িবহরটি আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেডের সামনে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বারবার অনুরোধ করলেও অবরোধকারীরা সরে যাননি। একপর্যায়ে পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরোধকারীদের সরিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে নিয়ে যায়।

আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, পর্যটকেরা উজোবাজার এলাকা ত্যাগ করার পর সশস্ত্র ব্যক্তিদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি হয়। তবে গোলাগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হওয়ার খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

তিন দফা দাবিতে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি–সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করেছে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঘাইহাটের শুকনাছড়াসহ সড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও স্লোগান দিয়ে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনায় ইউপিডিএফ ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, সাজেকে ইউপিডিএফের তৎপরতা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে এমনটি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রাঙামাটি জেলা পুলিশ ও সাজেক পুলিশের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।