আবারও অবরোধের ঘোষণা, সাজেক ছাড়তে পর্যটকদের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২৬
তিন দফা দাবি পূরণ না হওয়া এবং প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে আবারও সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বুধবারের মধ্যেই পর্যটন এলাকা ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের কর্মসূচি
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বাঘাইহাট ও মাচলং বাজার দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধ এবং শারদীয় দুর্গাপূজার প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আবারও কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সংগঠন দুটি। সেদিন বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মো. সালমান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ তিন দফা দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পরে শর্তসাপেক্ষে অবরোধ স্থগিত করা হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে ১৫ অক্টোবর আবারও অবরোধ পালন করা হয়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরবর্তী সময়ে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।
নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ
বিবৃতিতে সংগঠন দুটির নেতারা অভিযোগ করেন, জেএসএসের সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যরা এখনো আগের অবস্থানে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, শতাধিক সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রামবাসীদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। নিরাপত্তাহীনতার কারণে জুমচাষীরা নিজেদের জমিতে হলুদ ও ঝাড়ুফুলের বাগান পরিষ্কার করতে যেতে পারছেন না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠন দুটির নেতারা আরও অভিযোগ করেন, সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
নেতারা বলেন, এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষা এবং সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বন্ধে তাঁদের কথিত অবস্থান থেকে সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
জরুরি যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত
অবরোধ চলাকালে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বুধবারের মধ্যেই পর্যটন এলাকা ত্যাগ করার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
তবে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন, সংবাদপত্র বহনকারী যান এবং সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকদের গাড়ি অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।



