রক্তাক্ত জুলাইয়ের এক দশক: ফিরে দেখা হলি আর্টিজান

হলি আর্টিজান হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১, ২০২৬

২০১৬ সালের ১ জুলাই। বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম বিভীষিকাময় একটি দিন। রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত Holey Artisan Bakery-এ সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি সংকট, নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এবং দেশি-বিদেশি নাগরিকদের মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো দেশ। সেই হামলার এক দশক পূর্ণ হয়েছে আজ।

হলি আর্টিজান হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। নিহত বিদেশিদের মধ্যে ছিলেন ইতালির নয়জন, জাপানের সাতজন এবং ভারতের একজন নাগরিক। এছাড়া জিম্মিদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনার সময় দুই পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত “অপারেশন থান্ডারবোল্ট”-এর মাধ্যমে জিম্মি সংকটের অবসান ঘটে। অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয় এবং ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তৎকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন Islamic State হামলার দায় স্বীকার করলেও বাংলাদেশ সরকার দেশীয় জঙ্গি সংগঠন Neo JMB-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গোপন মেসেজিং অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সদস্য সংগ্রহ, মতাদর্শ প্রচার এবং যোগাযোগ রক্ষা করছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, প্রচলিত গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি এখন সাইবার মনিটরিং ও ডিজিটাল গোয়েন্দা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

দেশে জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব ও বর্তমান হুমকি নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে ভিন্নধর্মী বক্তব্যও এসেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উগ্রবাদী তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকার কথা বলছে, অন্যদিকে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কিছু বক্তব্যে জঙ্গিবাদের বর্তমান অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উগ্রবাদ মোকাবিলায় আত্মতুষ্টি বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ জঙ্গিবাদ সবসময় দৃশ্যমান আকারে উপস্থিত থাকে না; অনেক সময় এটি দীর্ঘ সময় ধরে নীরবে সংগঠিত হয় এবং সুযোগ পেলে বড় ধরনের হামলার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে।

হলি আর্টিজান হামলা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল। জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার হয়, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে পরবর্তী বছরগুলোতে বড় ধরনের হামলা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

তবে এক দশক পর বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সেই সাফল্য ধরে রাখতে হলে জঙ্গিবাদবিরোধী ইউনিটগুলোর মূল ফোকাস পুনরায় উগ্রবাদ দমনের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজন দক্ষ জনবল, আধুনিক প্রযুক্তি, অনলাইন নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।