অপতৎপরতার আশঙ্কায় ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ায় ছয় জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হয়।”

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে আমাদের সবসময় সতর্ক থাকতে হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় তারা মিছিল-মিটিংয়ের মতো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এতে মনে হয়েছে, তারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে।”

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, এ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনা সদস্যদের ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বেসামরিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

তবে সেনা মোতায়েনকে পুলিশ বাহিনীর প্রতি অনাস্থা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা কখনো বিজিবি, কখনো সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে থাকি। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব তাদের মাঠ থেকে সরানো হয়।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই। যেসব এলাকায় নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, সেসব স্থানেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আইনের চোখে সবাই সমান। কোনো এমপির ছেলের বিশেষ সুবিধা নেই। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এক হিন্দু নারীর পৃথক প্রদেশ দাবির প্রসঙ্গ উঠেছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। ওই বক্তব্যটি সম্ভবত মুখ ফসকে বলা হয়েছিল। অনেক সময় বক্তৃতা দিতে গিয়ে অতিউৎসাহী হয়ে অনেকে এমন মন্তব্য করে ফেলেন।”

এর আগে সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এলাকা এবং নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় ৩০ জুন পর্যন্ত সেনা মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জানমালের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।