মানব পাচারের ভয়াবহ চিত্র, সবচেয়ে বেশি শিকার নারী ও শিশু

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে মানব পাচারের শিকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী ও শিশুরা। বিশেষ করে যৌন শোষণ এবং জোরপূর্বক শ্রমে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে তাদের পাচার করা হচ্ছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তর (ইউএনওডিসি)-এর গ্লোবাল রিপোর্ট অন ট্র্যাফিকিং ইন পারসনস ২০২৪-এ উঠে এসেছে এমন উদ্বেগজনক তথ্য।

৩০ জুলাই বিশ্ব মানব পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বে মানব পাচারের ঘটনা ২৫ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে সাব-সাহারান আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপে।

প্রতিবেদন বলছে, সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি মানুষের মানব পাচারের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ২ হাজারের বেশি পাচারের শিকার ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ শতাংশই শিশু। এর মধ্যে ২২ শতাংশ মেয়ে শিশু এবং ১৬ শতাংশ ছেলে শিশু। এছাড়া শনাক্ত হওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ নারী এবং ২৩ শতাংশ পুরুষ

যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে পাচারের ক্ষেত্রে নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এ ধরনের ঘটনায় ৬৪ শতাংশ ভুক্তভোগী প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ২৮ শতাংশ মেয়ে শিশু। বিপরীতে পুরুষ ও ছেলে শিশু মিলিয়ে এ হার মাত্র ৬ শতাংশ

অন্যদিকে, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে হওয়া পাচার এখন সবচেয়ে বড় মানব পাচারের ধরন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এতে মোট ভুক্তভোগীর ৪২ শতাংশ জড়িত। এদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ, ২৩ শতাংশ নারী, ২০ শতাংশ ছেলে শিশু এবং ১০ শতাংশ মেয়ে শিশু

ইউএনওডিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বের ১৬২টি দেশ থেকে মানুষ পাচার হয়ে ১২৮টি দেশে পৌঁছেছে। শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা মোটের ৩১ শতাংশ

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মানব পাচারের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করছে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র। ৯৪২টি আদালতের মামলার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ পাচারকারী কোনো না কোনো অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। পাচারকারীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ পুরুষ এবং ২৮ শতাংশ নারী

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানব পাচার আধুনিক দাসত্বের অন্যতম ভয়াবহ রূপ। এ অপরাধ প্রতিরোধে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা জোরদার, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত, সংঘাত ও জলবায়ু বিপর্যয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সহায়তা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।