বিদেশে স্বপ্নভঙ্গ, শূন্যহাতে ফিরছেন লাখো বাংলাদেশি
ডেল্টা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২৬
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার হয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শূন্যহাতে দেশে ফিরছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক জাতীয় পরিসংখ্যান না থাকলেও শুধু ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই প্রতি বছর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার মানুষ বিভিন্ন দেশের কারাগার বা আটককেন্দ্র থেকে ডিপোর্টি হিসেবে দেশে ফেরেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সাড়ে ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি এভাবে দেশে ফিরেছেন। এছাড়া সাগরপথে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতিবছর প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
মানব পাচার প্রতিরোধে ২০১২ সালে আইন প্রণয়ন করা হলেও বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মানব পাচার আইনে ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা বিচারাধীন ও তদন্তাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৭৮টি তদন্তাধীন এবং ৩ হাজার ৩০৬টি বিচারাধীন।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে ৫০০টির বেশি নতুন মামলা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৭টি। ২০২৫ সাল এবং ২০২৬ সালের এ পর্যন্ত মানব পাচারের কোনো মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির পাওয়া যায়নি।
এদিকে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে সরকার সম্প্রতি ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানকে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি সংঘবদ্ধ মানব পাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রাখা হয়েছে। সরকার বলছে, নতুন আইন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর পাচার ও সাইবার প্রতারণা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মূল অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে মানব পাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবছর লাখো মানুষ শূন্যহাতে দেশে ফিরলেও বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙা না গেলে এবং নতুন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করা কঠিন হবে।



