জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করার প্রস্তাব: সুইজারল্যান্ডে গণভোট
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৪:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬
দেশটির স্থায়ী জনসংখ্যা সর্বোচ্চ এক কোটিতে সীমিত করার একটি বিতর্কিত প্রস্তাবের ওপর আগামী রোববার সরাসরি ভোটে অংশ নিতে যাচ্ছেন সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা। মূলত বিদেশিদের অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন হ্রাস এবং দেশের নিজস্ব পরিচিতি ও জীবনযাত্রার মান ধরে রাখার লক্ষ্যে এই প্রস্তাব আনা হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের সংসদে সবথেকে বেশি আসনে থাকা ডানপন্থি দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ (SVP) এই প্রস্তাবের মূল উদ্যোক্তা।
একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, এই প্রস্তাব নিয়ে ভোটারদের মধ্যে তীব্র এবং কঠিন প্রতিযোগিতা হতে চলেছে।
পাস হলে সরকারের ওপর যেসব বাধ্যবাধকতা আসবে: রোববারের গণভোটে প্রস্তাবটি বিপুল ভোটে পাস হলে সুইস সরকারকে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের জনসংখ্যা কোনোভাবেই এক কোটির ওপরে যেতে না দেওয়ার আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১ লাখে।
-
প্রথম ধাপ: ২০৫০ সালের আগেই যদি দেশের জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছে যায়, তবে সরকার বাধ্য হয়েই রাজনৈতিক আশ্রয় (অ্যাসাইলাম), পারিবারিক পুনর্মিলন এবং নতুন বসবাসের অনুমতি বা রেসিডেন্স পারমিটের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে।
-
চূড়ান্ত ধাপ: দেশের জনসংখ্যা কোনোভাবে এক কোটিতে পৌঁছে গেলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সাথে করা এমন সব মুক্ত চলাচল চুক্তি পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে বাতিল করতে হবে।
উভয় পক্ষের পক্ষে-বিপক্ষে নানা যুক্তি: প্রস্তাবের সমর্থকদের দাবি, ২০০২ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সীমান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার পর থেকে এ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির আবাসন খাত, গণপরিবহনসহ সার্বিক অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সীমানা নীতির কারণে দেশে অপরাধের হার বাড়ছে বলেও দাবি ডানপন্থি নেতাদের।
অন্যদিকে, সুইস ফেডারেল সরকার, দেশের পার্লামেন্ট এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘ইকোনোমিসুইস’ এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে একে ‘অবাস্তব ও আত্মঘাতী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, সুইজারল্যান্ড তার অভাবনীয় অর্থনৈতিক সাফল্যের জন্য মুক্ত বাজার ও বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং ও অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের বড় অংশই জোগায় বিদেশিরা। জনসংখ্যা নির্ধারণের এই কঠোর নীতি পাস হলে তা সুইজারল্যান্ডের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলবে এবং দেশটির প্রধান বাণিজ্য অংশীদার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কে বড় ধরণের ফাটল ধরাবে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (OECD) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩২ শতাংশই বিদেশি নাগরিক, যা লুক্সেমবার্গ ও অস্ট্রেলিয়ার পর বিশ্ব দরবারে সর্বোচ্চ। আগামী রোববারের এই ঐতিহাসিক ভোটে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা নিজেদের জনসংখ্যা বেঁধে দিয়ে এক নতুন যুগের সূচনা করবেন, নাকি দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক উন্মুক্ততা বজায় রাখবেন—তার ওপর এখন গভীর নজর রাখছে গোটা ইউরোপ।



