গ্যাসসংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সহায়তা চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২৬

দেশে চলমান গ্যাসসংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে এলএনজি (LNG) আমদানিসহ জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতা চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে গ্যাসসংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহক, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সিএনজিচালিত গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গৃহস্থালি পর্যায়ে নারী ও শিল্প উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দ্রুত সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ হয় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র এবং আমদানি করা এলএনজি—এই দুই উৎস থেকে। তবে গত সপ্তাহে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU)-এ বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এফএসআরইউ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে সেখান থেকে ২৮০ থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। আর পরবর্তী সপ্তাহের শেষ নাগাদ টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল হতে পারে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এফএসআরইউ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা ত্রুটি দ্রুত সমাধানে কাজ করছেন। মঙ্গলবার সকালে প্রতিষ্ঠানটির আঞ্চলিক প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেছে।

মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছে একটি চিঠি পাঠান। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এ সময় বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের অনুরোধকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া সম্ভব, তা দ্রুত জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ই বিবেচনা করছে না; দেশটির জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে একটি মাত্র এফএসআরইউর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংকট সরকারকেও উদ্বিগ্ন করছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।