সরকারি চাকরিজীবীদের সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব

নবম পে স্কেলের আওতায় থাকবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬

নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একাধিক আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারেন। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে স্কেলের আওতায় আসবেন, তবে সরকারি চাকরিজীবীদের তুলনায় কিছুটা পরে তাদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা। নতুন পে স্কেলে এটি পাঁচ গুণ বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের পর এটিই ভাতা কাঠামোয় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের অন্যতম হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল কার্যকরের পর পূর্বের রীতি অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

মাউশির পরিচালক (অর্থ ও ক্রয়) প্রফেসর মোহাম্মদ মনির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের পে স্কেল আগে কার্যকর হয় এবং পরবর্তী সময়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সেই সুবিধা পান। সাধারণত দুই পক্ষের জন্য একই সময়ে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয় না।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পে কমিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বর্তমান টিফিন ভাতা বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত খসড়ায় ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা শিক্ষা ভাতা চালু, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবীমা সুবিধা এবং প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে এমন কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত দুই হাজার টাকার বিশেষ চাইল্ড কেয়ার ভাতা চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

তবে এসব সুবিধা এখনো প্রস্তাবনার পর্যায়ে রয়েছে। সচিব কমিটি ও সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। এরপরই কোন কোন সুবিধা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে, তা নিশ্চিত হবে।