নতুন মুদ্রানীতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:২৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২৬
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি (এমপিএস) ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় মুদ্রানীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান।
নতুন মুদ্রানীতিতে আগামী ছয় মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে সরকারকে ব্যাংক ঋণ প্রদানের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ১৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন মেয়াদে এ হার সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। ফলে নতুন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবারও নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। পাশাপাশি স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, নীতি সুদহার অপরিবর্তিত থাকলেও ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান সর্বোচ্চ ৪ শতাংশের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো অতিরিক্ত সুদে ঋণ বিতরণ করতে পারবে না।
তিনি আরও জানান, ৬০ হাজার কোটি টাকার স্টিমুলাস প্যাকেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
খেলাপি ঋণ কমাতে ১৮ মাসের তিন ধাপের কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। প্রথম ধাপে এক্সিট প্ল্যান, দ্বিতীয় ধাপে অর্থঋণ আদালত আইন বাস্তবায়ন এবং তৃতীয় ধাপে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা সরকারের দায়িত্ব। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নীতিগত অবস্থান হিসেবে উচ্চ নীতি সুদহার বজায় রেখেছে।
সরকার আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও একই লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মুদ্রানীতি প্রণয়ন করেছে।
তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাসে দেশে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ ছিল। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ ছিল। এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।



