মধ্যবিত্তের স্বস্তি, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমাল না সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২৬
জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগামী ছয় মাসের জন্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদে বর্তমান সুদহারই বহাল থাকবে। ফলে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা আগের মতোই সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পাবেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সরকারি ঋণ ও আর্থিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিনিয়োগের পরিমাণ ও মেয়াদভেদে সঞ্চয়পত্রের বিদ্যমান সুদহারই বহাল থাকবে। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারী জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা পান।
পরিবার সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ বহাল থাকবে। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সুদের হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং এর বেশি হলে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকবে।
এ ছাড়া তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ সুদ মিলবে। ডাকঘর সঞ্চয়পত্র (তিন বছর মেয়াদি) স্কিমেও একই হারে মুনাফা বহাল রাখা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি তা স্থগিত করা হয়। ফলে জানুয়ারি-জুন মেয়াদেও আগের সুদহার বহাল ছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্তও সেই হার অপরিবর্তিত থাকছে।
বর্তমানে সরকার ছয় মাস পরপর জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার নির্ধারণ করে। তবে কোনো বিনিয়োগকারী যে সময়ে সঞ্চয়পত্র কিনবেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই সময়ের নির্ধারিত সুদহারই কার্যকর থাকবে।



