বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত ঢেলে সাজাতে ১০ বছরের পরিকল্পনা : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:০২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬
আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে নতুন করে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার সেই কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর এর ভিত্তিতে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক ব্যক্তি এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিএনপি সরকার সংসদে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও বিকল্প পরিকল্পনা থাকলে সেটিও জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। তবে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাঁদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে পৌঁছাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালও সঠিকভাবে কারখানায় আসবে। শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনকে সেখানে বড় একটি জায়গা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি চীন সফরে দেশটির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কয়েকশ মিল-কারখানা গড়ে উঠবে এবং এসব কারখানায় চট্টগ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, এসব শিল্পকারখানা চালু হলে একদিকে বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল উৎপাদনকারী কৃষকরাই নন, বাঁশখালীর লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন।
লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনা করে লবণের এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে লবণচাষিরা স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়। আগামী কিছুদিনের মধ্যে নির্ধারিত মূল্য সবাইকে জানানো হবে। এতে লবণচাষিদের আগের মতো লোকসান বা দুর্ভোগ পোহাতে হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। এর মধ্যে বাঁশখালী এলাকার ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।



