এশিয়া থেকে সরে যাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, বরং শক্ত অবস্থান নিচ্ছে: পেন্টাগন
ডেল্টা আন্তর্জাতিক
প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১০, ২০২৬
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে, এশিয়া থেকে সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। বরং নিজেদের স্বার্থে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে এ অঞ্চলে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে পেন্টাগন।
সোমবার ম্যানিলায় এক বক্তৃতায় এ কথা বলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই এশিয়া থেকে সরে যাচ্ছে না। আমরা চলে যাচ্ছি না।’ বরং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে।
তবে একই সঙ্গে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোকেও নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়ার আহ্বান জানান কোলবি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত ‘নির্ভরশীলতা নয়, অংশীদারি।’
কোলবি বলেন, মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষায় আরও বেশি বিনিয়োগ করতে হবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরও নিতে হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ছেড়ে দিচ্ছে—এমনটা ভাবার কারণ নেই। বরং শক্তিশালী অংশীদার থাকলে পুরো অঞ্চলের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়।
প্রথম দ্বীপশৃঙ্খলে প্রতিরোধ বাড়ানোর পরিকল্পনা
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে রাখতে প্রথম দ্বীপশৃঙ্খল এলাকায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মার্কিন এই কর্মকর্তা।
প্রথম দ্বীপশৃঙ্খল বলতে সাধারণত জাপান থেকে তাইওয়ান, ফিলিপাইন হয়ে বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত দ্বীপাঞ্চলকে বোঝানো হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
কোলবি বলেন, এই কৌশল শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এজন্য মিত্র দেশগুলোকেও নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে কোলবি
এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর করছেন এলব্রিজ কোলবি। সফরের প্রথম গন্তব্য ফিলিপাইন, যা এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পুরোনো চুক্তিভিত্তিক মিত্র।
সফরকালে তিনি ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াতেও যাবেন।
তার এই সফর এবং বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে এ অঞ্চলে মিত্রদের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছে ওয়াশিংটন।
কোলবির বক্তব্যে তাই স্পষ্ট—এশিয়া থেকে পিছু হটছে না যুক্তরাষ্ট্র; বরং মিত্রদের আরও বেশি দায়িত্বশীল করে নিজেদের নেতৃত্বে আঞ্চলিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চাইছে ওয়াশিংটন।



