জাপানে দক্ষ পেশাজীবী হয়ে ওঠার সুযোগ

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

জাপানে দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে গড়ে উঠতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কলেজ বা ‘সেনসু গাক্কো’। এগুলো ক্যারিয়ারভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবহারিক প্রযুক্তি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পান। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপান সরকারের শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (এমইএক্সটি) স্কলারশিপের আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

এই স্কলারশিপের আওতায় প্রথমে এক বছরের প্রস্তুতিমূলক শিক্ষা নিতে হয়। এ সময়ে শিক্ষার্থীদের জাপানি ভাষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয় পড়ানো হয়। এরপর দুই বছর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কলেজে পড়াশোনা করতে হয়। সফলভাবে কোর্স শেষ করলে শিক্ষার্থীরা ডিপ্লোমা পান।

ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনেরও সুযোগ রয়েছে। ফলে ব্যবহারিক ও পেশাগত শিক্ষার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার পথও খোলা থাকে।

স্কলারশিপে যেসব সুবিধা

এমইএক্সটি স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মাসিক ১ লাখ ১৭ হাজার ইয়েন ভাতা দেওয়া হয়। এ ছাড়া টিউশন ফি ও ভর্তি পরীক্ষার ফি মওকুফ করা হয়। যাতায়াতের জন্য রাউন্ড-ট্রিপ বিমান ভাড়াও দেওয়া হয়। ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক কম আর্থিক চাপ নিয়ে জাপানে পড়াশোনা করার সুযোগ পান।

যাঁরা আবেদন করতে পারবেন

আবেদনের জন্য শিক্ষার্থীকে হায়ার সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। আবেদনকারীর জন্ম ২০০২ সালের ২ এপ্রিল বা তার পরে হতে হবে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার শর্তও রয়েছে।

যেভাবে হবে নির্বাচন

এই স্কলারশিপের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কয়েকটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পরবর্তী ধাপে দূতাবাসের সুপারিশের ভিত্তিতে আবেদন পাঠানো হয় এমইএক্সটি কর্তৃপক্ষের কাছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপের সুযোগ পান।

চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুতি

সেনসু গাক্কোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা, পর্যটন, ডিজাইনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করে।

বিশেষায়িত এই শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক জ্ঞান নয়, বরং নির্দিষ্ট পেশায় কাজ করার প্রয়োজনীয় দক্ষতাও অর্জন করতে পারেন। ফলে পড়াশোনা শেষ করে জাপানের চাকরির বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যায়।