ব্রাজিলে অস্থায়ী ভিসা ইস্যু হবে অনলাইনে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬

ব্রাজিলে অস্থায়ী ভিসা ইস্যুর প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ভিসা-মুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট শ্রেণির অস্থায়ী ভিসা (VITEM) ইলেকট্রনিকভাবে ইস্যু করার ব্যবস্থা চালু করেছে দেশটি। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ভিসার জন্য পাসপোর্ট কনস্যুলেটে জমা দিতে হবে না। অনলাইনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পর অনুমোদিত ভিসা ইমেইলের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

ব্রাজিলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কনস্যুলার সেবা সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যেসব দেশের নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসায়িক সফরে ভিসা ছাড়াই ব্রাজিলে যেতে পারেন, কিন্তু পড়াশোনা, চাকরি, পরিবারে যোগদান, বিনিয়োগ কিংবা ডিজিটাল নোম্যাড হিসেবে দীর্ঘ সময় থাকতে চান, তাদের অস্থায়ী ভিসা নিতে হবে।

যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, ইতালি, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা নতুন সুবিধার আওতায় থাকবেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও এ সুবিধা পাবেন।

তবে আমেরিকা, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আলাদা। এসব দেশের নাগরিকরা ২০২৫ সাল থেকে ব্রাজিলের ভিসা-মুক্ত সুবিধার আওতায় নেই। তাই ব্রাজিলে ভ্রমণের জন্য তাদের আলাদা ই-ভিসা নিতে হয়।

নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের ব্রাজিলের Sistema Consular Integrado (SCI) প্ল্যাটফর্মে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথি অনলাইনে জমা দিতে হবে। আবেদন অনুমোদিত হলে ভিসা ইলেকট্রনিকভাবে ইস্যু করে আবেদনকারীর ইমেইলে পাঠানো হবে। সাধারণত ভিসাটি পিডিএফ ফাইল আকারে দেওয়া হবে এবং এতে একটি কিউআর কোড থাকবে।

আগের ব্যবস্থায় ভিসা স্টিকার লাগানোর জন্য পাসপোর্ট কনস্যুলেটে জমা দিতে হতো। নতুন পদ্ধতিতে এই ধাপ বাদ দেওয়ায় আবেদনকারীদের সময় ও ঝামেলা কমবে। তবে প্রয়োজন হলে কনস্যুলেট মূল নথি যাচাই করতে পারে বা আবেদনকারীকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকতে পারে।

ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথির ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকছে। যেমন চাকরির ভিসার ক্ষেত্রে ব্রাজিলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আগে নিতে হবে। দেশটিতে পৌঁছানোর পর ফেডারেল পুলিশের কাছে নিবন্ধনের নিয়মও বহাল রয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থা চালুর পরও কয়েকটি কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে পুরোনো নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে। নিউইয়র্ক, মন্ট্রিয়ল, প্যারিস, লন্ডন, বার্সেলোনা, জেনেভা ও পোর্তোর কনস্যুলেটগুলোতে এখনো পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।