কম খরচে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা মিলছে যে ৫ দেশে

ডেল্টা ডেস্ক

ডেল্টা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় দিন দিন বাড়ছে আমেরিকায়। চিকিৎসার উচ্চ খরচ, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং বীমার সীমাবদ্ধতার কারণে দেশটির অনেক নাগরিক এখন কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসার জন্য বিদেশের দিকে ঝুঁকছেন। ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশে তুলনামূলক কম খরচে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় এসব দেশ বসবাসের জন্যও পছন্দ করছেন অনেকে।

ওয়েস্ট হেলথ-গ্যালাপের এক জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রায় অর্ধেক আমেরিকান নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর ফলে চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা বিবেচনা করেও অনেকে বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

কম খরচে তুলনামূলক ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়—এমন পাঁচটি দেশ হলো:

ফ্রান্স

ফ্রান্সে তিন মাস বসবাসের পর নাগরিক ও যোগ্য বাসিন্দারা জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পান। ফলে চিকিৎসার ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। পাশাপাশি সাশ্রয়ী বেসরকারি চিকিৎসাসেবাও পাওয়া যায়। ইংরেজিভাষী চিকিৎসক খুঁজতে ‘ডক্টোলিব’ অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।

পর্তুগাল

পর্তুগালে চিকিৎসকেরা রোগীর সমস্যা বিস্তারিতভাবে শোনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। আমেরিকার তুলনায় চিকিৎসা ব্যয়ও তুলনামূলক কম। দেশটির বড় শহরগুলোতে ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে পারেন—এমন চিকিৎসক সহজেই পাওয়া যায়।

স্পেন

স্পেনে তুলনামূলক কম খরচে বেসরকারি স্বাস্থ্যবীমা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রায় ৭৫ ডলার মাসিক খরচে পাওয়া কিছু বীমা পরিকল্পনায় বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত থাকে। আমেরিকার তুলনায় অপেক্ষার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে কম। মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, মালাগা ও কোস্টা দেল সলের মতো এলাকায় ইংরেজিভাষী চিকিৎসক পাওয়া যায়।

পানামা

পানামায় আধুনিক হাসপাতাল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা আমেরিকার তুলনায় অনেক কম খরচে পাওয়া যায়। অনেক চিকিৎসক রোগীদের বেশি সময় দেন এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের সুযোগ রাখেন। দেশটির কয়েকটি হাসপাতাল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং আমেরিকার নামী চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারত্বও রয়েছে।

কোস্টারিকা

কোস্টারিকায় সরকারি ও বেসরকারি—দুই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য মাসিক ফি সাধারণত আয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। বেসরকারি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে সাধারণত ৬০ থেকে ১০০ ডলার খরচ হয়। ওষুধের দামও আমেরিকার তুলনায় কম।

ইউরোপের অনেক দেশে করভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে যোগ্য বাসিন্দারা তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা নিতে পারেন। পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় দ্রুত চিকিৎসক দেখানো, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোর সুযোগ রয়েছে।

তবে কোনো দেশে চিকিৎসা বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্যবীমা, বসবাসের অনুমতি, চিকিৎসার যোগ্যতা ও প্রকৃত খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা জরুরি।